লড়াইটাতো নিজের সাথেই,
পরের কি আর দোষ বলো!
এত বুঝেও অবুঝ এ মন.
অন্ধকারেই খুঁজছে আলো!!
কথার কথা সবাই তো দেয়,
রাখার বেলা কেউ থাকে না!
মোহের টানে ছুটছে সবাই,
মনের খবর কেউ রাখে না!!
নামলে আঁধার একলা সবাই,
নিজের ছায়াও সঙ্গ ছাড়ে!
বোকা এ মন তবুও কেমন,
পরকে শুধুই আঁকড়ে ধরে!!
সব পিছুটান ছুঁড়ে ফেলে,
বদলে যাওয়াই এখন রীতি!
বেহায়া মন তবুও দেখো,
ধুঁকছে কেমন আগলে স্মৃতি!!
ধোঁয়া ওঠা চায়ের ভারে,
পথ চলতে চলতে কনুইর ঠোকাঠুকিতে,
কখনও ট্রেনে শত ভিড়ের মাঝে চোখাচোখিতে,
কখনও গঙ্গার ধারের শীতল বাতাসে,
কখনও দীর্ঘক্ষণের আবেগী বার্তালাপে -- ভালোবাসা হয়ে যায়।
জাত-পাত-ধর্ম-অর্থের বেড়াজালে শরীর বাঁধ মানলেও ভালোবাসা যে মুক্তি অভিলাষী।
যে মেয়েটি সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে তোমার চোখের রঙ মাখতে ছুটে যায় মাইলের পর মাইল,
যে মেয়ে জিন্স-টপেতে নয় বাঙালি বেশে তোমার মন কাড়তে ব্যস্ত,
সেই মেয়ে তোমার মনে ধরে না কেন?
বৃষ্টিভেজা রাতে একলা অপেক্ষারত তোমার মুখ দেখবে বলে,
যে মেয়ে নুপুর পড়ে তোমার নিঃসঙ্গ রাতের মায়া হবে বলে,
তাকে কেন এত অবহেলা?
বলি, ভালোবাসায় --ধর্ম-বর্ণ-জাত-অর্থ-গায়ের রঙ সব দেখতে হয় বুঝি?
জমকালো মনটাকে পড়া যায় না?
ভালোবাসাকে দুয়ারে দুয়ারে না খুঁজে,
ভালোবাসি বলে ঐ অবলা মেয়েটিকে কী একবার জড়িয়ে ধরা যায় না?
কথার জালে তাকে বন্দী করে কেন বারংবার কর ছল?কেন এই বেইমানি?
মন থেকে কেন বলো না,চলো দুজনে মিলে একলা জীবনে একমুঠো সুরেলা প্রেম আনি?
দোতলার ঘরে একলা থাকে ছেলেটা। বহুদিন হল ওর সাথে গাছেদের আর কোনো সম্পর্ক নেই। ময়লা চাদর, ছেঁড়া পাঞ্জাবি আর শুকনো বোতলের সংসারে ওর ভূমিকা ঝুলবারান্দার মতোই; বাড়ির বউ ছাড়া আর কেউ তেমন আসে না। ও হ্যাঁ, বলা হয়নি; ওর একটা বউ ছিল, সুন্দরী গোলগাল, যেন সাক্ষাত মা সরস্বতী। যদিও ছেলে-বউ কেউই ঠাকুর-দেবতা মানত না...
বইটা পড়তে পড়তে ছেলেটা এক-একদিন খেলার মাঠ হয়ে যেত। ওর বউ সেই মাঠে বসে চড়ুইভাতি করতো ছোটবেলার বন্ধুদের নিয়ে। সেমিকোলন, কমা আর দাঁড়ি দিয়ে চচ্চড়ি রেঁধে সবাই মিলে ভূতের গল্প করতো ওরা। পেটকাটি-চাঁদিয়াল-চিল ঘুড়ির লোভে ছেলেগুলো যখন মাঠের পর মাঠ পর হয়ে যেত, মেয়েগুলো তখন বুনোপাতা-বুনোফুল তুলে এনে দোকান সাজাত তাসের দেশে...
অনেকক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে ওরা বুঝতো ওরা এখন বড়ো হয়ে গেছে। আর তাই ওরা মিলিত হতে যখনতখন। ওরা যে আর ছোটো বাচ্ছাটি নেই- এটা বোঝাবার জন্যে ওরা মিলিত হত বারংবার। শরীর চিনতে চিনতে হারিয়ে যেত রান্নাবাটি-কিতকিতের সময়। ফেলে আসা শেষ বিকেলের রোদ আর সকালবেলার খেজুরগুড়ের গন্ধরা হারিয়ে যেত অচিরেই...
এখনও দোতলার ঘরে একলা থাকে ছেলেটা। রূপকথার গল্পগুলোকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে মিশিয়ে এদ্দিনে কোনোমতে চালিয়ে এলেও এখন আর তার গুলগল্প চলছিল না। পেটের খিদে আর শরীরের চাহিদায় জর্জরিত ছেলেটা একদিন হঠাৎ বাজার হয়ে বসল পাড়ার মোড়ে। তারপর থেকে তার খুব চাহিদা। সবাই তাকে চায়। শুধু সেই ত্যাগ করেছে নিজেকে। দোতলার ঘরে আজকাল আটপাওয়ালা মাকড়শার বাস, তারা শিকার ধরতে জানে তবে বেঁচে থাকতে জানে না...
ভাবনা তোমার খিলখিলিয়ে
যতই চলুক হেলেদুলে
টালমাটাল ঝিরঝিরে ঐ হাওয়ায়
পাতার উপর দুলকি নাচন
সেই তো আসল বাঁচার বাঁচন
সেই তো তোমায় সকল পাওয়া পাওয়ায়।
চলতি পথের দুই ধারে দুই
অশ্বত্থ গাছ রোজ আমি ছুঁই
আর , তোমায় ছুঁয়ে বয়ে আসা বাতাস !
সে তো আমার সই হয়েছে
তোমার ভাবনা মই করেছে
আমার প্রানে ফিসফিসিয়ে দিচ্ছে তারি আভাস ।
বৃষ্টি এসে ঝুপতালি দেয়
তোমার পাতায় টুপ্ টুপিয়ে নামি
অবাক করা ছন্দ তখন আমায় মাতায়
পৌঁছে যাওয়ার চেয়ে যে তাই
পথ চলাটাই দামী।
"কবিতা কুটির" নজরুল স্মৃতি সংখ্যা - ১৪২৬, ডাউনলোড করা জন্য নিচের "Download" লেখা লিংকটিতে ক্লিক করুন
বটগাছটার অনেক বয়স। শুধু গাছটাকে জড়িয়ে ধরলে তবেই তার বুকের ধুকপুকানি শোনা যায়। সে সব দেখে, সব বোঝে কিন্তু কেউ তাকে চিনতে পারেনি শুধু ওই ছেলেটা ছাড়া। ছেলেটার একটা নাম ছিল, বলাই। বলাইকে আজকাল আর চোখে দেখা যায় না, হয়তো চাপা পড়ে গেছে কোথাও! তাই মনে হয় আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছিল গাছটা...
ছাদের আধশুকনো গামছাটা, লুকিয়ে রাখা গল্পেরবইটা, পড়ে থাকা একটাকার কয়েনটা সবাই দেখছিল হাঁ করে। পাশের বাড়ির অকেজো ছেলেটা মানে বলাই, বেশ কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ। ওদিকে কাকটা অনেকদিন পর ডাস্টবিন থেকে মাংস পেয়ে বেজায় খুশি, হয়তো মানুষের মাংসের স্বাদ কাকটার মনে থাকবে অনেকদিন...
এরপর শুধুই সময় পেরিয়ে গেছে। চলতে চলতে তারা গোনা স্বভাবের মানুষেরা বাঁচেনি বেশিদিন। বাস্তব চেনাতে গিয়ে গোলাপফুলের ইতিকথারা ঝরে গিয়েছে অকালে। নতুন সকাল আসবে বলে ডাক দিয়েছিল যারা, এখনও আকাশের দিকে তাকালে তাদের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়...
রংয়ের তাৎপর্য ...
সে তো নিছকই জীবনের খোঁজ !
লাল, গোলাপী কিংবা নীল
এদের ভাষা তো একই--
তারা সকলেই রং; ভালবাসার,
জীবনে ভালবাসাই তো রং।
মানুষের কথার পিঠে কথা
রংয়ের পিঠে রং, কেবলই রঙের প্রকারভেদ
হলুদ, সবুজ কিংবা বেগুনি
কখনো বসন্ত রাঙায় মন
কখনোও বা শরৎ -হেমন্ত
রঙের পিঠে রং, সুখের পিঠে সুখ
তাতেই হবে জীবন উন্মুখ।
আজও বসেছিলে ঠিক পিছনের সিটে,
বলার ছিল অনেক কথা,
কিন্তু কোন অজানা শক্তি দিল সব ঘেঁটে,
নিস্তব্ধতা জানিয়ে দিল বুকের ব্যাথা।
এসেছিলে মেঘবিহীন বজ্রপাতের মতন,
ক্রমেই বাড়ালো হৃদস্পন্দনের গতি,
একসময়ে হীরের থেকেও অমূল্য রতন,
রিংটোনেই প্রতিফলিত অবাধ উপস্থিতি।
চেনা পারফিউমটি কেনো অচেনা,
হাজার চেষ্টাতেও পারি না ধরতে,
ফিরে তাকানো কি একেবারেই সাজে না?
বেঁচে আছি যে মরতে মরতে।
কবিতা রোজ যার তরে কাঁদে,
মাথা লুকোয় আজ অন্যের কাঁধে।










