"কবিতা কুটির" নজরুল স্মৃতি সংখ্যা - ১৪২৬, ডাউনলোড করা জন্য নিচের "Download" লেখা লিংকটিতে ক্লিক করুন
বটগাছটার অনেক বয়স। শুধু গাছটাকে জড়িয়ে ধরলে তবেই তার বুকের ধুকপুকানি শোনা যায়। সে সব দেখে, সব বোঝে কিন্তু কেউ তাকে চিনতে পারেনি শুধু ওই ছেলেটা ছাড়া। ছেলেটার একটা নাম ছিল, বলাই। বলাইকে আজকাল আর চোখে দেখা যায় না, হয়তো চাপা পড়ে গেছে কোথাও! তাই মনে হয় আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছিল গাছটা...
ছাদের আধশুকনো গামছাটা, লুকিয়ে রাখা গল্পেরবইটা, পড়ে থাকা একটাকার কয়েনটা সবাই দেখছিল হাঁ করে। পাশের বাড়ির অকেজো ছেলেটা মানে বলাই, বেশ কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ। ওদিকে কাকটা অনেকদিন পর ডাস্টবিন থেকে মাংস পেয়ে বেজায় খুশি, হয়তো মানুষের মাংসের স্বাদ কাকটার মনে থাকবে অনেকদিন...
এরপর শুধুই সময় পেরিয়ে গেছে। চলতে চলতে তারা গোনা স্বভাবের মানুষেরা বাঁচেনি বেশিদিন। বাস্তব চেনাতে গিয়ে গোলাপফুলের ইতিকথারা ঝরে গিয়েছে অকালে। নতুন সকাল আসবে বলে ডাক দিয়েছিল যারা, এখনও আকাশের দিকে তাকালে তাদের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়...
রংয়ের তাৎপর্য ...
সে তো নিছকই জীবনের খোঁজ !
লাল, গোলাপী কিংবা নীল
এদের ভাষা তো একই--
তারা সকলেই রং; ভালবাসার,
জীবনে ভালবাসাই তো রং।
মানুষের কথার পিঠে কথা
রংয়ের পিঠে রং, কেবলই রঙের প্রকারভেদ
হলুদ, সবুজ কিংবা বেগুনি
কখনো বসন্ত রাঙায় মন
কখনোও বা শরৎ -হেমন্ত
রঙের পিঠে রং, সুখের পিঠে সুখ
তাতেই হবে জীবন উন্মুখ।
আজও বসেছিলে ঠিক পিছনের সিটে,
বলার ছিল অনেক কথা,
কিন্তু কোন অজানা শক্তি দিল সব ঘেঁটে,
নিস্তব্ধতা জানিয়ে দিল বুকের ব্যাথা।
এসেছিলে মেঘবিহীন বজ্রপাতের মতন,
ক্রমেই বাড়ালো হৃদস্পন্দনের গতি,
একসময়ে হীরের থেকেও অমূল্য রতন,
রিংটোনেই প্রতিফলিত অবাধ উপস্থিতি।
চেনা পারফিউমটি কেনো অচেনা,
হাজার চেষ্টাতেও পারি না ধরতে,
ফিরে তাকানো কি একেবারেই সাজে না?
বেঁচে আছি যে মরতে মরতে।
কবিতা রোজ যার তরে কাঁদে,
মাথা লুকোয় আজ অন্যের কাঁধে।
কোথাও যেন থমকে গেছে পথ ,
দীঘির পাড়ে শুধুই নীরবতা
কাজল মেঘে আকাশ ঘনিয়ে এলে
বৃষ্টি নামার বিশুদ্ধ স্তব্ধতা ।
গাঁয়ের মাঠে তালগাছটাও একা
ঘন কালো মেঘ ঘিরেছে তাকে
গাঁয়ের বঁধুর নাগ কেশরী কেশ
একলা পথে চলছে কলস কাঁখে ।
রাখাল তুমি বাজিও না আড়বাঁশি
তোমার বাঁশি বড্ড হৃদয়কাড়া
দেখেছি তোমার কষ্টিপাথর দেহ
কালো মেঘের মতই মনোহরা ।
ঝড় উঠেছে মত্ত গাছপালা
ফুল গুলো সব আজকে বৃন্তচ্যূত
পাখির বাসা আছড়ে পরে পথে
মাটির বুকেও আঘাত লাগার ক্ষত ।
শেষ বেলায় উন্মত্ত সব হাওয়া
উড়ায় ধূলো , বন্ধ কপাট সব
কবির যত অলেখা পান্ডুলিপি
ঝড়ের কাছে মেনেছে পরাভব ।
তোমার ইন্দ্রিয় ভোগের তৃষ্ণাকে,
রেখেছো তুমি দমিয়ে।
আমি অপারক, তাইতো-আমার নাম, আজও ফেরে বেশ্যালয়ের করিডোরে।।
কেন তুমি জানো?
লাম্পট্য যৌবনের উদ্দাম নৃত্য, যেদিন নেচেছিলো
তোমার স্তন্য যুগলে.....
....করেছিলে আওভান, রূপ....রস...সকলি,
মাধুকরী করিতে।।
চরিত্রের চোরাবালিতে, বারংবার ঠেলে-
আত্মসুখের কালো গহ্বরে- ডুবেছিলাম সেদিন
প্রথম সূর্যোদয়ে......।।
মৃগনয়না,মায়াবিনীর ওই জাদুতে,
যেমত করিয়া ভ্রমরা ভুলে চিত্রতে.....তেমনি
.......হায়রে বিধাতঃ হায়!!
ঔদ্ধত্যের চরম সীমায় আজও- .....পড়েনি সিলমোহর,
তিলে তিলে চলেছি ক্রমশ মৃত্যুর সোপানে ।
আজ রয়ে গেছে শুধু তোমার আলিঙ্গন খানি,
দুশ্চরিত্রের চরম সীমায় আসিয়াছি আমি -
..দায়ী কে ? তুমি .....না আমি.....?
যোনি পিপাসাই শেষ কথা আজ,
বয়সে কী যায় আসে!
ধর্মের রং মেখে নিলে গায়ে-
আইনও থাকবে পাশে।
বলছ মুখে 'বাঁচাও নারী'
'শিক্ষা নারীর অস্ত্র', বদলে-
যৌনতা হল মাপকাঠি, তাই;
নারীরা আজ বিবস্ত্র।
উত্তর তবু মেলেনি, আরও-
চিন্তারা হল জড়ো,
এটাই নাকি স্বচ্ছ দেশের-
নমুনা সবচেয়ে বড়ো।
না ঘুমিয়ে জাগো হে সমাজ,
প্রতিবাদ শুরু করো, কারণ-
হাজার হাজার 'আসিফা'-ও হয়
তোমাদের ঘরে বড়ো॥










