প্রতিটি শস্য ঘুমিয়ে আছে নিজস্ব দিনের অপেক্ষায়, মাচায় তোলা আছে স্বাদ,সুধা আর স্রোত।
এইবার রক্তে কেউ কোনো ছবি আঁকবে না!
এইবার লাশে কেউ কোনো পথ বানাবে না!
নবান্নের নতুন বউ দুই বিঘা জমির আলে ঘুরে ঘুরে দেখে নেয় প্রেমিকপুরুষের প্রস্তাব ও পালনশক্তি।
ছিদাম আর তারাপদ একসঙ্গে বাঁশি শুনে অপেক্ষা করে ঘরে ফিরে আসার,অমল দইওয়ালার কাছে শিখে নেয় দই বসানোর কারুকাজ,শান্তির মিছিল নয়,আশ্রয় সন্ধানে নিজেদের পথ করে হাঁটে শচীশ আর গোরা
সংগীতহারা সব পাতা আঁচল হয়ে উঠুক,নদী এসে মিশে যাক প্রতিটি গল্পের শরীরে
নীল আকাশ মানুষকে ঈশ্বর করেনি,দিগন্ত থেকে আসেনি মহাভারতীয় সঞ্জয়চোখ,পূজা ফেলে,স্তব ফেলে,মন্ত্র বা আয়াত ফেলে
শুধু মাঠের মতো প্রতিটি পাতা খুলে দেখলে মনে হয়,ক্ষেতে ক্ষেতে শস্যকণা নয়,প্রণাম ফলে আছে।
উথালপাথাল কাহিনীগুলো,
আঁচড় কাটে জীবন পাতায়-
মিথ্যে ভরা সত্যিগুলো,
পরে ভাবলে শুধু কাঁদায়।
ভাবনাগুলো বন্দী আজ,
স্তব্ধ আমার ভাষা,
গুমরে থাকা শব্দগুলো-
হাতড়ে বেড়ায় আশা।
শব্দগুলোও ক্লান্ত বড়ো,
খুনে প্রেক্ষাপটে-
অক্ষরগুলো লড়ছে তবু,
আজকে জীবনতটে।
এই অক্ষরেরা ধারালো ভীষণ,
ছন্দ বড়োই সোজা,
আমার আমি-কে চিনবে না তুমি-
বৃথাই তোমার খোঁজা।
মিলতে চাই আরও একবার
যেখানে রাত আসে বিজলী বাতির আলোয়,
চাঁদটা ঢেকে যায় উঁচু অট্টালিকায়!
যেখানে ভালোবাসা গুমরে মরে
চার দেওয়ালের গায়ে,
আশাগুলো যেখানে পরিনত হতাশায়
ভালোবাসা যেখানে মুঠোফোন আর ব্যস্ততায়।
মিলতে চাই সেখানেই, সে ভাবেই;
তোর প্রিয় সাজে আর প্রিয় শহরের কালিমায়।
তোর জন্য রাজি সব ছাড়তে
বাঁচব শুধু ভালোবাসায়
মানিয়ে নেবো শহরটাকে
ফেলে আসবো সুখ আশায়
যদি কখনো গ্রামের দিকে তোর মন যায়
দেখবি সেদিন আমার আশারা
আজও তোর নামেই ফুল ফোটায়।

বছর পাঁচেক দেখা নেই আর
গর্তে ঢুকেছে প্রতিশ্রুতি দিয়ে
মা-বোনেরা খালি পেটে থেকে
উন্নয়নকে ছোটায় রাস্তা ঘাটে
তবু আমাদের শিক্ষা হবে না
ভোট দিতে ছুটি সকাল-সকাল
ধক নেই সবাই নোটায় ভোট দিয়ে
বয়কট করি ভোটের উৎসব
ভাষণ দিচ্ছে দল বেঁধে এসে
জনসভায় উপচে পড়ছে ভিড়
মিথ্যে সবাই বুঝতে পারছি তবু
জবাবদিহি চাইছি না সব চুপ
ডান-বাম সবই সমান এখন
কার উপর ভরসা করা যায় ?
ভোট মানেই ঢপের প্রহসন
ভোটাধিকার যখন লুপ্তপ্রায়
তবু তোমায় নিতে হবে পক্ষ
ঝুঁকতে হবে যেকোনো এক দিকে
জীবন যখন ঝুলো-পলেস্তারা
আশা ছাড়া লাভ কি আর বেঁচে?
কোনো এক রাজা আসন পাবে
কোনো রাজার চুকবে রাজপাট
লাল সূর্য কে গারদে বন্দি রেখে
রাষ্ট্র-যন্ত্রে পিষবে নতুন প্রাণ
উৎসব যখন পালিত হয় অস্ত্র হাতে
ধর্ম যখন রাজনীতির আশ্রয় নেয়
আচ্ছে দিন ক্যায়সে আয়ে গা
ইয়ে সিষ্টেম হিতো কোরাপ্টেড হে
ঝাণ্ডাবাজির আর নেই দরকার
মানুষ আর চাইছে না রাজনীতি
কত দিন আর ভোটতন্ত্র হবে
গণতন্ত্রে কি আর আছে সম্প্রীতি।
মন ভালো হোক, মন ভালো হোক
মনকে রেখো বশে,
মনকে রেখো সবার মাঝে
আনন্দে উচ্ছ্বাসে।
মন হলো সেই ছোট্ট পাখি
উড়তে সদাই চায়,
তাইতো এ প্রাণ দূর আকাশে
উধাও হয়ে যায়।
মনই জানে মনের খবর,
ভুলতে মনের ক্ষত
দেখবে সেথায় স্বচ্ছ বাতাস
বইছে অবিরত।
তবু, আসক্তির ওই বেড়াজালে
মনকে বেঁধে রোজ
শিকল দিয়ে হানছো আঘাত
রাখছ না তার খোঁজ।
মন নিয়ে তাই বৃথাই কাঁদা
দু দিনের এই ভবে,
মন পাখি কি সদাই রবে!
ছাড়বে খাঁচা কবে!!
মনকে দিয়ো মুক্ত আকাশ
আলো, বাতাস, জল
দেখবে সেথায় রোদ ঝলমল
শিশির টলমল।
মন সাজিয়ো মনের মত
বাঁচতে চেয়ে আজ,
মন ছাড়া যে বৃথাই ছোটা
থাকুক যতই কাজ।
তাই, মন ভালো হোক সদাই চেয়ো
দুঃখ যা হয় আসুক,
চেয়ো সবার হৃদমাঝারে
তোমার ছায়া ভাসুক।।
'কবিতা কুটির' নববর্ষ সংখ্যা ১৪২৬ ডাউনলোড করা জন্য নিচের "Download" লেখা লিংকটিতে ক্লিক করুন
আমার বাড়ি এক গ্রামে।
আমার নাম.. থাক জানতে হবে না-
শুধু জেনে রাখুন আমি এক পরিচয়হীন মেয়ে।
খুব দূর্বল ভাবছেন তাই না?
ভাবছেন হয়তো খুব অদ্ভুত আমি।
জানেন আমার বাবা-মা আমাকে খুব ভালোবাসে
আমাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন।
আমি এখন চাকরি করি,শহরে থাকি।
ভেবেছিলাম আমার বিয়ে হবে,
অরুণ আমার অফিসের সহকর্মী।
আমাদের বিয়ে ঠিক হলো জানেন?
ভালোবাসতে চেয়েছিলাম আমি-
কিন্তু কপালে আমার সুখ সৈইলো না।
একদিন আমারা ঘুরতে গেছি অজানা পথে,
অরুণ আমার হাত ধরে বললো-
আমাকে বিয়ের আগেই কাছে পেতে চায়।
রাজি না হতেই আশপাশ থেকে ছুটে আসে---
ওর নোংরা, জানোয়ার বন্ধুরা,
পশুর মতো আমাকে শেষ করে দিলো।
আমার প্রচন্ড চিৎকারে জেগে উঠলো মাটি,
জ্বলতে লাগলো দাবানলের তীব্র দহন---
কিন্তু কেউ শুনলো না আমার কন্ঠস্বর।
আজও আমার কলঙ্কের দাগ আমায় আঘাত করে-
পথে-ঘাটে, অফিসে-আদালতে
আমার পরিচয় বলে কিছু রইলো না,
আমি এক পরিচয়হীন মেয়ে।
পুরুষেরই মতো জন্মায় এরা,
সমাজে জ্বালায় বাতি,
সবদিক থেকে পিছিয়ে আজও-
এরা সেই নারী জাতি।
মায়ের কোলে ছেলে এলে,
বাড়ে বাপের মান,
কোনো কারনে মেয়ে হলে তা-
বাড়ীর অকল্যাণ !
শৈশবে তার আঁচলেই নাকি,
ছিল তোমার স্থান, পরে-
যৌন খিদেয় সেই আঁচলেই ;
মারছো তুমি টান।
লোকে বলে তারা সর্বনাশা,
নেই যে তাদের বল,
তারা কেবল পুরুষ সেবক-
বাচ্চা গড়ার কল।
বলছি তবে শোনো এবার,
আমরা কি কি পারি-
হাড়ে হাড়ে তবে বুঝবে তুমি,
কাদের বলে নারী ?
অবলা ভেবে নারীর ওপর,
করছে যারা হাল্লা,
জানেনা তারা সবস্তরে আজ-
নারীরা দিচ্ছে পাল্লা।
পাইলট থেকে রেল ড্রাইভার,
অফিস থেকে স্কুল-
সর্বত্র নারীরা কাজে ,
একেবারে নির্ভুল।
ফিরে দেখো তবে সংস্কৃতি,
শিল্পকলার গুণ,
গৃহকর্মেও নারীরা আবার-
একেবারে নিপুণ।
সমাজের বুকে সাজানো বাগানে,
নারীরা আসল মালী,
তিলে তিলে এরা গড়েছে সমাজ-
শুনেছে হাজার গালি।
এরপরও নারী কলঙ্কিনী!
চরিত্র যে তার দাগী, শুধু-
বড়ো দামী হয় রাতের সুখে;
বলো কে দোষের ভাগী?
সবশেষে তাই বলছি শোনো,
নারীকে করো ভক্তি,
পাবে না যে পার, যদি জেগে যায়-
আমাদের নারীশক্তি।
খরো রোদ নেয় শক্ত ঢিলার ঘ্রাণ
প্রতিবেশী মেয়েটি হেঁটে যায় লাল ব্লাউজের শরীরে
কলঙ্ক এঁকে দেয় সূর্য নামের পুরুষ
সূর্যমুখী ফুলের ছায়ায় কিছু সময় নীরবতা
অতন্দ্র সীমান্তে মাটির দেওয়াল
প্রাণভয়ে মেয়েটি লজ্জাবস্ত্র গায়ে জড়ায়
ঝোঁকে পড়ে সূর্য আদর মাখায়
নতুন আলোর প্রাণে সারা গাঁ বেঁচে ওঠে
মৃত্তিকাচারী মেয়েটির স্পর্শে ।









